দেশজুড়ে

গাইবান্ধায় সঞ্চয়ের দুই লাখ টাকা উইপোকায় কাটা সেই কৃষকের পাশে দাঁড়ালেন মিজানুর রহমান সুমন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ইঁদুর ও উইপোকায় কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলায় সঞ্চয়ের দুই লাখ টাকা খুইয়েছিলেন কৃষক তোফাজ্জল হোসেন (৭২)। সঞ্চয় হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়া এই কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন সৌদিপ্রবাসী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান সুমন।

কৃষক তোফাজ্জল হোসেনকে নিয়ে প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদন পড়ে নিজের ছোট ভাইয়ের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা পাঠিয়েছেন ওই প্রবাসী। আজ বুধবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে তোফাজ্জল হোসেনের হাতে টাকা তুলে দেন প্রবাসীর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান।

হাবিবুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার বড় ভাই সৌদি আরবে ব্যবসা করেন। তিনি প্রথম আলো পত্রিকায় গাইবান্ধার কৃষক তোফাজ্জল হোসেনের প্রতিবেদনটি পড়েন। সেখান থেকে ফোন করে ওই কৃষককে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর পাঠানো টাকা আজ কৃষকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁর বড় ভাই মিজানুর রহমান সুমন এ ধরনের অনেক মানুষকে আর্থিক সহায়তা করেন বলে তিনি জানান।

টাকা পেয়ে আনন্দে কান্নায় ভেঙে পড়েন কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, ‘হামারঘরে দুই নাক (লাখ) ট্যাকা ইনদুরে খাচিলো। ট্যাকা কোনটে পামো, তাক নিয়া হামরা শোকের মদ্দে পরচিনো। ইনদুরে খাওয়া ট্যাকা আচকে পানো। হামারঘরে অনেক উপক্যার হলো বাবা। হামার কষ্টের কতা পেপারোত দ্যাকি, তোমরা আল্লার দ্যাশ মরুভূমিত থাকি ট্যাকা পাটাচেন। ক্যামন করি তোমারঘরোক ধন্যবাদ দেমো, দোয়া করি আল্লায় তোমারঘরে ভালো করুক।’
এর আগে মাইক্রোবাসযোগে ঢাকা থেকে তোফাজ্জলের বাড়ি গাইবান্ধার ধুমাইটারি গ্রামে আসেন প্রবাসীর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। পরে তিনি কৃষকের হাতে টাকা তুলে দেন। এ সময় প্রবাসীর আত্মীয়স্বজন, সুন্দরগঞ্জের পুটিমারি উচ্চবিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক শাহজাহান মিয়া, স্থানীয় ব্যবসায়ী জুয়েল রানা, কৃষকের মেয়ে মোরশেদা বেগম ও তাঁর স্বামী ছামছুল হক উপস্থিত ছিলেন।

গাইবান্ধা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে ধুমাইটারি গ্রাম। চরাঞ্চল থেকে এসে ধুমাইটারি গ্রামে বসতি গড়েছেন কৃষক তোফাজ্জল হোসেন। তাঁর তেমন জমিজমা নেই। কখনো দিনমজুর, কখনো কৃষিকাজ ও কখনো রিকশা চালিয়ে সংসার চালান। দুই বছর আগে ঢাকায় রিকশা চালিয়ে তিনি দেড় লাখ টাকা সঞ্চয় করেন এবং বাড়িতে শৌচাগার নির্মাণের জন্য জামাতা ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। সেই টাকা ঘরের কাঠের আলমারিতে রেখে দিয়েছিলেন।

৮ আগস্ট বিকেলে আলমারি খুলে তোফাজ্জল দেখতে পান, সেখানে রাখা টাকার বেশির ভাগই উইপোকা ও ইঁদুরে কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলেছে। পরদিন ঘটনাটির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, চাটাইয়ের ওপর ছেঁড়া ও কাটা ১০০০ ও ৫০০ টাকার নোট ছড়িয়ে আছে। তোফাজ্জল সেগুলো হাতে নিয়ে দেখছেন। পাশে দাঁড়িয়ে ‘আমার কী হইলো রে’ বলে কাঁদছিলেন স্ত্রী ফাতেমা খাতুন। এ নিয়ে ৯ আগস্ট প্রথম আলোতে ‘জমানো দুই লাখ টাকা কেটে খেল ইঁদুর-উইপোকা, কৃষকের আহাজারি’ শিরোনাম একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

আজ টাকা পাওয়ার পর তোফাজ্জলের স্ত্রী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ট্যাকা নসটো হওয়ার পর থাকি হামার সোয়ামি দিনআইত খালি কানদ্দিচে। ট্যাকার শোকোত তাই অসুস্তো হচিল। আচকে তাই খুসি হচে। হামরা সগলে খুসি।

Show More

Related Articles

Back to top button