দেশজুড়ে

লাকসাম ও তার আশপাশের এলাকায় মাদকের সয়লাব বৃদ্ধি ,যুব সমাজ ধ্বংসের পথে

মোহাম্মদ উল্লাহ রানাঃ
কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলা ও তার আশপাশের এলাকায় মাদকের সয়লাব বৃদ্ধি,পাড়া-মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলেও হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা, মদ, ফেনসিডিল, ইয়াবাসহ যে কোন ধরনের মাদকদ্রব্য।

জানা গেছে, গত ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই মাঠ পর্যায়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী আগের মতো সক্রিয় নেই।এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে লাকসাম ও তার আশ পাশের এলাকার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও অবাধে চলছে মাদক কারবারিদের রমরমা ব্যবসা। মাদকের করাল গ্রাসে আসক্ত হয়ে ডুবে থাকছে উপজেলার উচ্চবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্ত শ্রেণির হাজারো মানুষ। এ তালিকায় রয়েছে উঠতি বয়সী যুবসমাজ, স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্র, ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে উপজেলা জুড়ে মাদকসেবীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। এলাকায় উঠতি বয়সী তরুণ ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝে মাদকসেবীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্বিগ্ন-উৎকণ্ঠায় আছেন অভিভাবকমহল।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, একসময় লাকসাম উপজেলায় ফেনসিডিল, গাঁজা ও মদের ব্যবসা করতেন গুটি কয়েকজন মাদক ব্যবসায়ী। তাও বেচাকেনা হতো খুব গোপনে। এখন গাঁজা-মদের পাশাপাশি চলছে মরণনেশা ইয়াবা ট্যাবলেটের রমরমা ব্যবসা। যা প্রকাশ্যে বিক্রি করছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। শুধু তাই নয়, এসব ইয়াবার ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েছেন উপজেলার প্রভাবশালী পরিবারের অনেক তরুণ যাদের প্রতিরোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ প্রশাসন। স্থানীয়রাও ভয়ে এসব মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে পারছেন না। ফলে উপজেলাতে এখন অবাধে চলছে মাদক কেনা-বেচা। মাদক কেনা-বেচার সঙ্গে জড়িতদের বেশির ভাগেরই বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, যারা কিছুটা বিত্তশালী তারাই ফেনসিডিলের দিকেই ঝুঁকে রয়েছেন। অপরদিকে ইয়াবা ও গাঁজা’র দাম তুলণামূলক কম হওয়ায় এ দুটি মাদকের দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

সূত্রে জানায় কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার প্রায় ২০টি পয়েন্ট দিয়ে ঢুকছে বিভিন্ন ধরণের মাদকদ্রব্য। মাদক সরবরাহে কাজ করছে শতশত যুবক। জড়িয়ে পড়ছে নারী-পুরুষ এমনকি শিশুরাও। এসব মাদক প্রথমে চৌদ্দগ্রাম সীমান্ত সংলগ্ন বাড়ীতে বাড়ীতে জড়ো করা হয়। এরপর সুযোগ বুঝে চোরাচালান সিন্ডিকেটের সদস্যরা তা ছড়িয়ে দিচ্ছে বিভিন্ন উপজেলায়। দীর্ঘদিন ধরে চৌদ্দগ্রাম সীমান্তকে মাদক পাচারের নিরাপদ রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করছে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের সদস্য। ইয়াবা, ফেন্সিডিল,মদ ,যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও গাঁজার চাহিদা বাড়ার কারণে চোরাচালানের সিন্ডিকেটের সদস্যরা ভারত, ত্রিপুরা, আখাউড়া ও সিজোরাম এলাকা থেকে কুটি কুটি টাকার বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য এনে তাহা সুবিশাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে দিচ্ছে কুমিল্লা,লাকসাম,নাঙ্গলকোট, বাঙ্গড্ডাসহ কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে। চৌদ্দগ্রাম উপজেলার সুয়াগাজীসহ, কাকৈরতলা, বাঙ্গড্ডা ,ফুলগাঁও, নরপাটি হয়ে লাকসামের অলি-গলিতে এবং গ্রামে মিলছে ফেন্সিডিলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকদ্রব্য, প্রতিদিনই আসক্ত হচ্ছে যুব সমাজ। এসব এলাকা নীরব ও সহজে বহনযোগ্য হওয়ায় বিভিন্ন স্পটে মোটরসাইকেল ও ইজিবাইকের মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ মাদক বিক্রেতাদের দেখা যায়। এছাড়াও উপজেলার ইউনিয়ন পর্যায়ে ও উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ একাধিক স্পটে প্রকাশ্যেই মাদকের ব্যবসা হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নাকের ডগায় এই মাদকদ্রব্য বিক্রি ও সেবন হলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করে থাকেন। ফলে প্রতিদিন বাড়ছে মাদকসেবীর সংখ্যা, এতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবকেরা। বর্তমানে উপজেলা জুড়ে মাদকের অভয়ারণ্য বলে অভিহিত করেছেন অনেকেই। এই উপজেলায় কমপক্ষে অর্ধশতাধিক ব্যক্তি মাদক ব্যবসায় জড়িত রয়েছে। তাছাড়া মাদক ব্যবসায় লগ্নি আছে বেশ কয়েকজনের। মূলত প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তির টাকায় কেনা হয় মাদক। আর ডেলিভারি ম্যানের সাহায্যে এসব মাদক বিক্রি হয় বিভিন্ন স্পটে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেছেন,এই এলাকায় যুবসমাজের একটি বড় অংশ মাদকে আসক্ত হয়ে পড়েছে। নেশায় আসক্ত এসব যুবক মাদকের টাকা জোগাড় করতে জড়িয়ে পড়ছে চুরি, ছিনতাই, হামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। গ্রামগঞ্জে প্রায়ই ঘটছে দিনদুপুরে চুরির ঘটনা। সবমিলিয়ে ভীষণ দুশ্চিন্তায় আছেন অভিভাবকরা। তাদের অনেকেই নেশায় আসক্ত সন্তানদের সুপথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হচ্ছেন।এলাকায় প্রশাসনের তৎপরতায় মাদক উদ্ধার এবং মাদক ব্যবসায়ী আটক না করা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মানুষ।উপজেলার সচেতন নাগরিক সমাজ মাদকের এই ভয়াল থাবা থেকে নতুন প্রজন্মকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Show More

Related Articles

Back to top button